ডাউনলোড করুন জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস – হাজার বছর ধরে !!

নদী বয়ে চলেছে আপন গতিতে। গাছে গাছে ফুল ফোটে। আকাশে পাখি উড়ে- আপন মনে গান গায়। হাজার বছর ধরে যেই জীবনধারা বয়ে চলেছে, তাতে আশা-নিরাশা, প্রেম-ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়ার খেলা চললেও তা সহজে চোখে পড়ে না, অন্ধকারে ঢাকা থাকে।

কঠিন অচলায়তন সমাজে আর যাই থাকুক, নারীর কোন অধিকার নাই। নারী হাতের পুতুল মাত্র। পুরুষ তাকে যেমন নাচায় তেমন নাচে। নিজের ইচ্ছেতে কাউকে বিয়ে করাটা এমন সমাজে অপরাধ, গুরুতর অপরাধ। অন্ধকার এই সমাজে আনাচে কানাচে বাস করে কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন।

পরীর দীঘির পাড়ের একটি গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাহিনী। কখন এই গ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল কেউ বলতে পারে না। এক বন্যায় “কাষেম শিকদার” আর তার বউ বানের পানিতে ভেলায় ভাসতে ভাসতে এসে ঠাই নিয়েছিল এই জায়গায়। সেই থেকে এখানে পত্তনহয়েছিল শিকদার বাড়ির। শিকদার বাড়ীতে বাস করে বৃদ্ধ “মকবুল” ও তার তিন স্ত্রী সহ “আবুল” “রশিদ”, “ফকিরের মা” “মন্তু” এবং আরো অনেকে।

বৃদ্ধ মকবুলের অষ্টাদশি বউ টুনির মনটা মকবুলের শাসন মানতে চায় না । সে চায় খোলা আকাশের নিচে বেড়াতে, হাসতে, খেলতে । তাই সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয় অল্প বয়সী সঠামদেহী মন্তুকে । মন্তু বাবা-মা হারা অনাথ। বিভিন্ন কাজ করে বেড়ায় । টুনি আর মন্তু সকলের অগোচরে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ে মাছ ধরতে । বর্ষায় যায় শাপলা তুলতে। এমনি করে দুজন দুজনার কাছে এসে যায়। অব্যক্ত ভালবাসার জোয়ারে ভাসে ওরা দু’জন। কিন্ত কেউ মুখ ফুঁটে বলতে পারেনা মনের কথা, লোক লজ্জার ভয়ে । সমাজের রক্ত চক্ষু ওদের দুরে রাখে।

গাঁও গেরামে যা হয়, কলেরা বসন্তের মড়ক লাগলে উজাড় হয়ে যায় কয়েক ঘর মানুষ। ডাক্তার না দেখিয়ে টুকটাক তাবিজ করে, এভাবেই দিন চলে। মকবুলের আকস্মিক মৃত্যর পর মন্তু যখন মনের কথা টুনিকে খুলে বলে তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। গুন মোল্লা, আবুল, রশিদ, ফকিরের মা, সালেহা কেই নেই। টুনির সঙ্গে মন্তুর অনেকদিন দেখা হয়নি। টুনি হারিয়ে গেছে ওর জীবন থেকে। তবুও টুনিকে মাঝে মাঝে মনে পড়ে মন্তুর।

এমনি করে অনেকটা সময় পার হয়েছে। রাতের বেলা সুরত আলীর ছেলে ওর বাপের মতোই পুঁথি করে- “শোন শোন বন্ধুগনে শোন দিয়া মন, ভেলুয়ার কথা কিছু শোন সর্বজন।” ভেলুয়া সুন্দরীর কথা সবাই শানে। একই তালে, একই সুরে হাজার বছরের অন্ধকার এক ইতিহাস নিয়ে এগিয়ে চলে সবাই। হাজার বছরের পুরনো জ্যোৎস্না ভরা রাতে একই পুঁথির সুর ভেসে বেড়ায় বাতাসে। কালের আবর্তে সময় গড়ায়। প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। শুধু পরিবর্তন আসেনা অন্ধকার, কুসংস্কারাছন্ন গ্রাম বাংলার আচলায়াতন সমাজে।

এই কালজয়ী উপন্যাসটি আমাদের দেশে মাধ্যমিক স্তরে সহজপাঠ্য হিসেবে পড়ানো হয়। এর PDF ভার্শন ডাউনলোড করুন এখান থেকে।


19 Comments on “ডাউনলোড করুন জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস – হাজার বছর ধরে !!”

  1. ডাঃ তৌফিক হাসান শাওন says:

    ভাল জিনিস।

  2. আওয়াল আহমেদ says:

    আমি খুব ভালোবাসি জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস হাজার বছর ধরে। এই উপনাস যুগ যুগ বছর ধরেই চলবে এবং সবার মনে জায়গা করে নেবে।
    আশা করি সবার ভালো লাগবে।

  3. শাহ আলম says:

    আমার সবচেয়ে প্রিয় উপ্যনাস এটি। অসাধারণ।

  4. হৃদয় সরকার says:

    এমন মূলত জহির রায়হান ছাড়া আর কারও দ্বারা লেখা সম্ভব নয়।

  5. আশিক says:

    বার বার পড়তে ইচ্ছা হয়।

  6. মাহিনুর রহমান রাসেল says:

    জহির রায়হানের লেখা ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি আমার প্রিয় উপন্যাস।

  7. রহিম says:

    হুমম। ভালো।

  8. আমিন says:

    আমার প্রিয় একটা উপন্যাস।

  9. মোঃ শাহ্ আলম খান says:

    আমার সবচেয়ে প্রিয় উপন্যাস এটি। গ্রাম বাংলার মানুষের সুখ দুঃখ তাদের জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’। তার মাঝে বিরহের কাহিনী, অমায়িক প্রেমের গান – সব মিলিয়ে অসাধারন।

  10. মোঃ পারভেজ says:

    আজ ৭বছর পর উপন্যাসটি আবার আমায় সেই হাজার বছর আগে নিয়ে গেলো।

  11. সায়েম says:

    অসাধারণ একটি কালজয়ী উপন্যাস।

  12. দিদার says:

    আমার দেখা সেরা একটা উপন্যাস হল হাজার বছর ধরে।

  13. জাহাঙ্গীর আলম says:

    আমার সর্বকালের সেরা পছন্দের হাজার বছর ধরে।

  14. রহিম says:

    আমার সবে থেকে প্রিয় উপন্যাস।

  15. করিম says:

    আবার যদি ক্লাস নাইন কিংবা টেনে পড়তাম, তাহলে খুব মজা করতে পারতাম।

  16. মন্নু says:

    আমার কাছে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

  17. অনিল says:

    অসাধারন লেখক।


মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s