মেডিকেল প্রেম

কলেজ জীবনে প্রবেশ করেই পাই আমি তার দেখা,
হৃদয়ের মাঝে একে নেই আমি প্রেমের সরলরেখা।

ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে গিয়ে তার কথা আমি ভাবি,
ঘন্টাখানেক পরে মনে পড়ে, নিইনি রুমের চাবি।

তাড়াতাড়ি করে এসে দেখি নেই রুমের দরজা খোলা,
দরজায় তার ঝুলছে একটা বিশাল আকার তালা।

রুমমেটগণ চলে গেছে সব আগেভাগে ক্লাসরুমে,
আমি পড়ে যাই অথৈ সাগরে – ঢুকবো কীভাবে রুমে?

পাশের রুমের এক বড়ভাই (নামটা গোপন থাক!)
ঘুমায় সকাল ৯টা অবধি – জোরে জোরে ডাকে নাক!

তার এপ্রন ধার চেয়ে এনে দৌঁড়ে কলেজে যাই,
ঘড়িতে তখন নয়টা পনের, অবশেষে পৌঁছাই।

এনাটমী এর টিচার বলেন, “এত তাড়াতাড়ি এলে!
ঘন্টাখানেক পরে এলেও তো চলতো, বাঁদর ছেলে!”

ব্যাচের সকল ছাত্রছাত্রী মোর পানে চেয়ে হাসে,
কেউ কেউ বলে, “কয়দিন হলো এরকম এই মাসে?”

বুঝিনা তো আমি, মোর এই হাল কেন হয় প্রতিদিন?
টয়লেটে গেলে প্রেমিকা আমার হৃদয়ে বাজায় বীণ!

লেকচার ক্লাসে সামনে বসে সে শোনে পুরো লেকচার,
মোর সে সময় ঘুম ধরে, তাই লেকচার করা ভার!

পেছন বেঞ্চে বসে বসে আমি ঘুমাই মনের সুখে,
স্বপ্নে আমার প্রেমিকা আমায় চুমু দেয় মোর মুখে।

ঘুমের ঘোরেই চুমু দিই আমি প্রিয়ার নরম গালে,
খোঁচা খোঁচা দাড়ি অনুভব করি – জড়ালাম কোন জালে!?

জেগে দেখি রেগে দোস্ত আমার মুখটা সরিয়ে বলে,
“আর কতবার পড়বি আমার গালের উপর ঢলে?”

লেকচার শেষে ঢুলু ঢুলু চোখে ক্যান্টিনে খেতে যাই,
সে যখন আসে, তার পাণে আমি এক চোখ খুলে চাই।

বোঝেনা তো প্রিয়া চোখের এ ভাষা – কতখানি চাই তারে,
তারে ছাড়া মোর জীবন কাটবে একাকী অন্ধকারে।

ঝিমুতে ঝিমুতে এরপর আমি টিউটোরিয়ালে যাই,
স্যার কী পড়ায় – আল্লা মালুম, আমি পেছনে ঘুমাই!

স্বপ্নে আমার প্রেমিকা দৌঁড়ে দুহাত বাড়িয়ে আসে,
আমাকে জড়িয়ে বলে, সে কেবল আমাকেই ভালোবাসে।

আনন্দে আমি আটখানা হয়ে চিত্কার করে উঠি,
উঠে দেখি মোর সামনে টিচার, হাতে তার এক লাঠি।

বাকীটা সময় টুলের উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবি,
কেন যে আমাকে এত জ্বালা দেয় রুপসী সেই মানবী?

বিকালে যখন মর্কেটে যাই, খুঁজে ফিরি শুধু তারে,
লেখাপড়া মোর হয়না কিছুই তার পিছে পিছে ঘুরে।

সন্ধ্যাবেলায় বই নিয়ে বসে হাই তুলি বার বার,
বইয়ের পাতায় লেখার বদলে ছবি দেখি প্রেমিকার।

অবশেষে রাত ১০টা হলেই ঘুমের রাজ্যে ঢুকি,
যেথা সে রমণী আমার মনের জানালায় দেয় উঁকি।

মেডিকেলে পড়ে হব ডাক্তার – ছিল বাবা-মা’র আশা,
নেশা-রাজনীতি করি না কিন্তু ছাড়েনিকো ভালোবাসা।

ভালোবেসে আমি ফতুর আজকে তবু ভালোবেসে যাই,
তবু আশা করি – যদি কোনদিন তার ভালোবাসা পাই।

প্রেম একবার করেছি যখন, কভু মানবো না হার,
করবো তারেই জীবনসঙ্গী – লক্ষ্য এই আমার!!!!!!!


স্বদেশ শ্রেষ্ঠ

তুমিই সজীব, তুমিই সবল, তুমিই জাতির নেতা,
স্বদেশের তরে কাজ করে যাও, তুমিই শান্তিক্রেতা।

তুমিই সঠিক, তুমিই সত্য, তুমিই দেশের প্রাণ,
স্বদেশের তরে হাসিমুখে তাই জীবনটা করো দান।

স্বদেশের তরে জীবন দানে তো নাই জীবনের ক্ষয়,
স্বদেশের কাজে এগিয়ে আসতে কেন তবে পাও ভয়?

যে দেশ তোমায় এতটা দিয়েছে, দিয়েছে থাকার ঠাই,
সে দেশ কে তুমি কতটা দিয়েছ, এইবার বলো, ভাই।

দেহে যতদিন প্রাণখানি আছে, গড়িয়া তাহাকে তোল,
স্বদেশ শ্রেষ্ঠ, স্বদেশ শ্রেষ্ঠ – সর্বদা তাই বলো।


শিক্ষার ফল

শিক্ষার শেকড় তেতো হলেও মিষ্টি যে তার ফল,
এই কথাটা বলে গেছেন জ্ঞানী এরিস্টটল।

পড়তে হবে সকল প্রকার জ্ঞানযুক্ত বই,
তবেই পাবি শিক্ষার গাছে ওঠার একটা মই।

শিক্ষার ফল পাবার জন্য করবি কঠোর সাধনা,
নইলে বাকি জীবন কাটবে সাথে নিয়ে বেদনা।

প্রয়োগ করবি শিক্ষার ফল জীবনের প্রতি কাজে,
জীবন তাহলে সজ্জিত হবে অপরূপ এক সাজে।

কাজে লাগালে শিক্ষার ফল জনগনের কল্যাণে,
সকল দিকেই উন্নতি হবে – উন্নতি হবে জীবনে।

এই কথাটা তোরা সবাই মনে রাখিস ভাই,
শিক্ষার চেয়ে বড় পাওয়া জীবনে আর নাই।


তুমিই পারবে

তুমিই পারবে
এক অন্ধকে তার পথ চলায় সহায়তা করতে
যে তোমাকে প্রাণ ভরে দোয়া করবে,

 তুমিই পারবে
এক শ্রমিকের কপালের ঘাম মুছে দিতে
যে অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করবে।

 তুমিই পারবে
এক নিরক্ষর ব্যক্তিকে শিক্ষার আলো দেখাতে
যার মধ্যে আছে প্রতিভার ভাণ্ডার,

তুমিই পারবে
এক দুঃখিনী বিধবার মুখে অন্ন তুলে দিতে
ছিল না যার কাছে ক্ষুধার খাবার।

তুমিই পারবে
শোষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানাতে
যে কেড়েছে অনেক গরীবের অর্থ,

তুমিই পারবে
এক দরিদ্র ছাত্রকে আর্থিক সহায়তা করতে
লেখাপড়া ছাড়া যার জীবন ব্যর্থ।

তুমিই পারবে
এক ভিক্ষুকের থালায় দুইটা টাকা রাখতে
যা তার কাছে মূল্যবান সম্পদ,

তুমিই পারবে
এক পিপাসুকে একটু ঠাণ্ডা পানি দিতে
তপ্ত রোদ্রে পুড়েছে যার পদ।

তুমিই পারবে
এক কঙ্কালসার কৃষকের মাথায় ছাতা ধরতে
রোদ-বৃষ্টি যার মাথার উপর,

তুমিই পারবে
বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করাতে
যদি থাকে একটু ইচ্ছা – করার।


রূপ দেখে তুই ভুলিস না ভাই

রূপ দেখে তুই ভুলিস না ভাই, করিস না তুই প্রেম,
রূপ নারীদের প্রধান অস্ত্র – এই আমি বললেম।

রূপের কদর আজকে করবি, কালকে করবি না রে,
পরশু দিনকে আমার নিষেধ টের পাবি হারে হারে।

“রূপের চাইতে মন বড়” – এই প্রবাদে আস্থা রাখ,
রূপের মূল্য এক আনা আর মনের একশো লাখ।

সুন্দর মন যেসব নারীর, তাদের সঙ্গে চল,
জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাবার তারাই প্রধান বল।


ধনী-গরীব

ধনী-গরীবের বৈষম্যটা প্রাচীনকালের চিত্র,
রয়েছে এখনো সেই ব্যবধান, কমেনি বিন্দুমাত্র।

গরীবের শিশু রাস্তার ধারে অনাহারে দিন কাটায়,
ধনীদের শিশু ছোটবেলা থেকে নরম গদিতে ঘুমায়।

গরীবের ছেলে ইশকুলে যায়, মাঝপথে ঝরে পড়ে,
ধনীদের ছেলে ডাক্তার হয়ে বিদেশে বসতি গড়ে।

গরীব মায়েরা-বোনেরা পায়না লজ্জা ঢাকার কাপড়,
ধনীদের বউ-ছেলে-মেয়ে পরে লক্ষ টাকার চাদর।

ধনীর বাড়িতে গরীবের বউ ঝি-এর কর্ম করে,
ধনীরা তাদেরকে ইচ্ছামত ঘর-ঝাড়ু দিয়ে মারে।

গরীব বৃদ্ধ রাস্তার পাশে হাত পেতে বসে থাকে,
ধনীরা তাদের দেখে থুথু ফেলে, থাকে দশ হাত ফাঁকে।

ধনী যুবকেরা প্রেমিকার সাথে চাইনিজে খেতে যায়,
গরীবের ঘরে প্রেম-ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়।

গরীবেরা আশি টাকার জন্য সারাদিন ধান ভানে,
ধনীরা কামায় আশি লাখ টাকা ক্ষণিকের ব্যবধানে।

আর কতকাল চলবে এমন ধনী-গরীবের খেলা?
আর কতকাল গরীব পরাবে ধনীর গলায় মালা?

এ প্রশ্নগুলো সকলের মনে প্রতিদিন দেয় উঁকি,
উত্তরগুলো জানে না তো কেউ; বিধাতা, তুমি জানো কি???


সুখের ঠিকানা

দু’দিনের এই পৃথিবীতে এসে মোরা শুধু সুখ চাই,
পরের স্বার্থ গোল্লায় যাক! নিজের মান বাড়াই…

দু’দিনের সুখ পেতে সকলেই কত অপরাধ করি,
শেষ বিচারের দিন কী বলব – কেউ কি তা মনে করি???

প্রকৃত সুখ তো সকলেই চাই, পাই আর কয়জন?
সারাটি জীবন মত্ত আমরা খুঁজিতে সেই রতন…

বেঁচে আছি মোরা যেটুকু সময়, এসো ভালো কাজ করি,
স্রষ্টার ভয়ে সৎ পথে চলে তাঁর উপাসনা করি…

যার কারণে এ পৃথিবীতে আসা, তাঁকেই যদি না মানি,
কিছুই তাহলে পাবোনা জীবনে, পাবো মোরা শুধু গ্লানি…

স্রষ্টা মোদের বন্ধু সমান, সকলের প্রিয়জন,
তাঁর খুশিতেই আমাদের সুখ – মনে রাখি কয়জন???

স্রষ্টাকে খুশি করতে পারলে পাবো মোরা সবকিছু,
তবে কেন মোরা স্রষ্টাকে ভুলে হাঁটি পয়সার পিছু???

স্রষ্টার কৃপা অমৃতসম, পেয়েছে যে, সেই জানে,
সবকিছু তার অনুকূলে থাকে, সুখী হয় সে জীবনে…

স্রষ্টার কৃপা পাবো যদি মোরা জীবসেবা করে যাই,
হিংসা বিবাদ ভুলে ভাই-ভাই রুপে জীবন কাটাই…

“জীবের খুশিই স্রষ্টার খুশি” – বুঝেছে যে জন, ভাই,
জেনে রেখ, সে-ই সবচেয়ে সুখী, তার সম কেউ নাই…


আদর্শ ছাত্র

ভালো ছাত্র তো কারো গায়ে লেখা থাকে না,
তুমিও তা হতে পারো, যদি থাকে বাসনা।

বিশ্বাস করো তুমি খুব ভালো ছাত্র,
এইবার বসে যাও নিয়ে বইপত্র।

প্রথমেই জেনে নাও – সিলেবাস কতটা,
পরীক্ষা কবে হবে – জেনে নাও দিনটা।

মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো আজেবাজে চিন্তা,
একমনে পড়ে যাও, যা হবার, হবে তা।

মনে মনে, জোরে জোরে – পড় খুশি যেভাবে,
বুঝে বুঝে, খুঁজে খুঁজে পড়লেই পারবে।

একবার না পারলে ঘাবড়ানো যাবে না,
বার বার পড়ে দেখো – কঠিন তো কিছু না।

লিখে লিখে পড়লে তা বেশি মনে থাকবে,
না বুঝলে স্যারদের খোলাখুলি বলবে।

সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করবে,
সবার সঙ্গে সদা সদাচার করবে।

লেখালেখি-আঁকাআঁকি-বিতর্ক করবে,
প্রতিভা বিকাশে তবে সফলকাম হবে।

খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা নিয়মিত করবে,
বেশি রাত জাগবে না, ভোরবেলা উঠবে।

সত্যের পথে যেতে কক্ষনো থেমো না,
সৎ সাহসের পরিচয় দিতে ভুলো না।

মনে রেখো – জীবনটা দু’দিনের ঘটনা,
সময় নষ্ট করে হেথা কেউ জেতে না।

সময়ের কাজ করো ঠিক সেই সময়ে,
আগামীকালের তরে ফেলে রেখো না ভয়ে।

নিয়মিত স্রষ্টার উপাসনা করবে,
বিপদের মাঝে সদা তাকে মনে করবে।

উপায় হবেই, যদি ঠিক থাকো মননে,
আদর্শ ছাত্র হবে তুমি এ ভুবনে ।।